Header Ads

আমাদের সবার পরিচিত প্লেটো Pluto গ্রহকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে

আগে ছিল নয়টি এখন কেন আটটি?


যখন আমরা ছোট ছিলাম বা যাদের জন্ম নব্বই দশকে। আমরা স্কুলে পড়ার সময় আামাদের  বইয়ে সৌরজগতের গ্রহ কয়টি এই প্রশ্নের উত্তরে লেখা থাকত নয়টি। যথা- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লটো। কিন্তু এখনকার সোনামনিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলবে সৌর জগতের গ্রহ আটটি। 

তারা এখন প্লটোকে গ্রহ মানতে নারাজ। শুধু তারা না এখনকার বিজ্ঞান প্লটোকে গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় না। এর কারণ কি? ছোটবেলার আমাদের সবার  প্রিয় সেই প্লটো গ্রহের এমন কি হয়ে গেল যে এখনকার কেউ আর তাকে গ্রহ বলে মানে না। কী আপনার কি জানতে ইচ্ছে করে না? যদি করে তবে চলুন জেনে নেই প্লটো গ্রহের কাহিনী।

১৯৩০ সালে এই গ্রহ আবিষ্কারের পরে সারা পৃথিবীতে সাড়া পড়ে যায়। এর পর এর নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলতে থাকে। হাজার হাজার নামের প্রস্তাব আসে বিজ্ঞানীদের কাছে। অবশেষে ভেনিসীয়া বাণী নামে এক ১১ বছরের মেয়ে পাতাল দেবতা পলটো (Pluto) এর নামে গ্রহের নাম রাখার প্রস্তাব দেয় এবং তার দেওয়া নাম সবাই গ্রহণ করে। সেই থেকে এই গ্রহের নাম প্লটো।
 
২০০৬ সালে প্লটোকে গ্রহ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবং তার বিরোদ্ধে অভিযোগ যে, সে নাকি আর কোন গ্রহ না। অনেক কথাবার্তা আর গবেষণা করে কেউ বলে রাখতে আবার কেউ বলে বাদ দিতে কিন্তু শেষে প্লটো আর নিজেকে গ্রহের তালিকায় ধরে রাখতে পারলো না। এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet)  নামে পরিচিত এবং তিনি সৌর জগতের সদস্য।




২৪৮ বছরে প্লটো সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। অন্য সব গ্রহ সূর্যকে একই সমতলে  প্রদক্ষিণ করলেই প্লেটো বাবা ভিন্ন, সে সূর্যকে ১৭ ডিগ্রী কোণ করে প্রদক্ষিণ করে। এই কারণে সূর্যের সাথে নেপচুনের সংঘর্ষ্ হতে পারতো কিন্তু হয় না। এর কারণ হচ্ছে প্লুটো এবং নেপচুনের বৃত্তাকার গতি ঐক্যতানে আছে (enharmonic)

১৯৯২ সালে সূর্যের কাছাকাছি   প্লটোর মতো এমন অনেক বস্তু দেখা যায়। তখন বিজ্ঞানীরা ধারণা করে যে, প্লটোকে যদি গ্রহের মর্যাদা দেওয়া হয় তাহলে তো এদেরকেও গ্রহের মর্যাদা দেতে হবে। 

এর আগে গ্রহের কোন নিদিষ্ট সজ্ঞা ছিল না। এই সমস্যা সমাধান করার জন্য বিজ্ঞানীরা IAU resolution একত্রিত হয়ে গ্রহের  কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেন। এই বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে গ্রহ বলা হবে না থাকলে সে গ্রহ না।

১। গ্রহ হতে হলে তাকে অবশ্যই সূর্যের চারদিকে ঘুরতে হবে।

২। যতেষ্ট ভারী হতে হবে। যাতে নিজের মধ্যাকর্ষণের মাধ্যমে সে গোলাকার আকৃতি ধারণ করতে পারে।

৩। গ্রহের কক্ষপথ ভিন্ন হতে হবে। যদি ভিন্ন না হয় অর্থাৎ একই কক্ষপথ হয় তাহলে যে গ্রহের ওজন অপেক্ষাকৃত ভারী তাকেই গ্রহ বলা হবে।

আমাদের সবার প্রিয় প্লটো ৩ নাম্বার শর্ত্ পূরণে ব্যর্থ্ হয় তিনি নেপচুনের কক্ষপথে ডুকে পরেন, এবং তিনি নেপচুনের চেয়ে ওজনে হালকা তাই তাকে গ্রহ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Powered by Blogger.