ডেঙ্গু রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে সুখবর, টিকার সফল প্রয়োগ
ডেঙ্গু রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে সুখবর, টিকার সফল প্রয়োগ
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশী ডেঙ্গু জ্বর একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু একটি সিজনাল রোগ। বিশেষ করে শহর অঞ্চলের অপরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতায় মশার বংশবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় ফলে শহরাঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। শহরের সাথে তাল মিলি গ্রামাঞ্চলেও এ রোগের রোগী সনাক্ত করা যাচ্ছে।
এই জ্বরের কোন ওষধ বা চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নাই। বাংলাদেশের শহর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশ। বস্তিতে একসাথে অনেক মানুষ বসবাস ও নিয়মিত মশারী ব্যবহার না করার কারণে এই রোগ বাংলাদেশে বেশি বিস্তার লাভ করে। শহরের মানুষ গ্রামে আসা যাওয়ার কারণে বর্তমানে গ্রামে এই রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে।
ডেঙ্গু রোগের প্রধান বাহন হচ্ছে এডিস মশা, এডিস মশা এই রোগের জীবানু বহন করে।
প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এই জরের নির্ধারিত কোন চিকিৎসা না থাকায় এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেঙ্গুযোগী রোগের প্রধান ভ্যাকসিন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার হলেও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর কোন কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। তাই বর্তমান সময়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু রোগের কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা।
ডেনভ্যাক্সিয়া
(Dengvaxia) ডেনভ্যাক্সিয়া নামে ফ্রান্সের একটি
কোম্পানী একটি টিকা বের করেছে। কিন্তু এই টিকা বাচ্চাদের দেওয়া যায় না। যাদের বয়স
৯ থেকে ১৬ শুধু তারাই এই ভ্যাকসিন নিতে পারে। এর উপরে যারা তারাও এই টিকা নিতে
পারে না। এই টিকার কাজ নিয়ে যতেষ্ট সন্ধেহ রয়েছে। তাই এই টিকা তেমন কোন সুফল বয়ে
আনতে পারে নাই।
কিউডেঙ্গা (Qdenga): জাপানের
একটি ওষধ কোম্পানি কিউডেঙ্গা নামে একটি টিকা আবিষ্কার করেছে। এটিও সব বয়সের
মানুষকে দেওয়া যায় না। তবে আশার বিষয় হচ্ছে এই টিকাটি বিশ্বের অনেক দেশ
পরিক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করেছে এবং এতে অনেকটা সফল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিআর.বি ডেঙ্গু রোগের টিবি০০৫ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয ধাপ পরিক্ষা করে সফল হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের সফল পরিক্ষায় জানা গেছে, এই টিকা কমবয়সি ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই খুবই নিরাপদ এবং রোগ প্রতিরোধে অনেক কার্যকর। এই টিকার তৃতীয় ধাপের পরিক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। এই পরিক্ষার জন্য প্রয়োজন সরকারী পৃষ্টপোাষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা।
তবে আশা করা যাচ্ছে খুর তারাতারি ডেঙ্গু রোগের সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে। এবং আমরা এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাবো।
পরিশেষে বলতে চাই যে, এখনো পর্যন্ত যেহেতু সফল কোন টিকা আবিষ্কার হয়নী তাই সচেতনতাই হচ্ছে এই রোগের একমাত্র সমাধান। তাই আসুন নিজে সচেতন থাকি এবং অন্যকে সচেতন করি। এডিস মশার বিস্তার রোধ করি। আমাদের বাডির আশেপাশে ময়লা আবর্জনা ও জমানো পারি পরিষ্কার করি। নিয়মিত মশারি ব্যবহার করি।

